বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩ 📰 ই-পেপার
বিজ্ঞাপন
হেডার (লোগোর পাশে) 728×90
বিজ্ঞাপন
মেনুর নিচে (পূর্ণ প্রস্থ) 970×90

নিজের আমলের হিসাব অন্যকে জানানো কি ঠিক?

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৭ AM👁 ১ বার পঠিত
বিজ্ঞাপন
খবরের পাতা: লেখার আগে 728×90

 

দৈনিক সুদিন ডেস্ক –

নফল ইবাদত, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ ও সূরা ইখলাস পাঠের হিসাব অন্যকে জানানো যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ের আমলের হিসাব জমা দেওয়া এবং পরে সম্মিলিতভাবে দোয়া করার প্রচলন থাকলে বিষয়টি নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে।

 

ইসলামি আলোচনাভিত্তিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রশ্নের উত্তরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেছেন, নিজের আমলের হিসাব রাখার জন্য কতবার ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ ও সূরা ইখলাস পড়েছেন, তা লিখে রাখায় অসুবিধা নেই। তবে নফল আমল মানুষের কাছে প্রকাশ না করে গোপন রাখাই উত্তম।

 

আমলের হিসাব লিখে রাখা যাবে?

প্রশ্নকারী জানান, তাদের মসজিদের ইমাম এক মাসে কে কতবার ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ ও সূরা ইখলাস পাঠ করবেন, তা লিখে রাখতে বলেছেন। মাস শেষে সেই হিসাব জানালে মসজিদে দোয়া করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের আমলের পরিমাণ অন্যকে জানানো ঠিক হবে কি না, তা জানতে চান তিনি।

এর উত্তরে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, নিয়মিত আমল করার সুবিধার্থে নিজের ইবাদতের হিসাব লিখে রাখা যেতে পারে। এতে আমলের প্রতি যত্নবান থাকা এবং নিয়মিত ইবাদত চালিয়ে যেতে সুবিধা হয়।

 

তবে নফল ইবাদত, দরুদ ও ইস্তিগফারের হিসাব অন্যকে না জানিয়ে নিজের ও আল্লাহর মধ্যে গোপন রাখাই সর্বোত্তম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

ইমামকে আমলের সংখ্যা জানানো কি অনুচিত?

উত্তরে বলা হয়েছে, ইমামদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আমলের হিসাব জমা দেওয়ার পদ্ধতিকে অভ্যাসে পরিণত করা আকাবিরদের মতে অনুচিত ও পরিহারযোগ্য। তবে ইমামকে আমলের পরিমাণ জানানোর উদ্দেশ্য যদি তার কাছে দোয়া চাওয়া, উৎসাহ পাওয়া কিংবা আমলের বিষয়ে দিকনির্দেশনা নেওয়া হয়, তাহলে শুধু এ কারণে তা নাজায়েজ হবে না।

প্রশ্নকারীকে পরামর্শ দিয়ে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, ইমামকে আমলের সংখ্যা জানানোর প্রয়োজন নেই। বরং আমল গোপন রেখে মাস শেষে মসজিদে আয়োজিত সাধারণ দোয়ায় শরিক হওয়া যেতে পারে।

আমল গোপন রাখার বিষয়ে হাদিসে কী বলা হয়েছে?

উত্তরে সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন বান্দাকে ভালোবাসেন, যিনি মুত্তাকি, অমুখাপেক্ষী এবং নিজের আমল গোপন রাখেন।’

উত্তরের শেষে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, নফল আমল গোপন রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তবে কোনো উদ্দেশ্যে আমলের হিসাব অন্যকে জানানো হলে তার বিধান নির্ধারণে সেই উদ্দেশ্যও বিবেচ্য।

আরও পড়ুন

ইসলাম ও জীবন

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – চোখ মহান আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য নিয়ামত। এই চোখ দিয়েই আমরা পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখি, প্রিয়জনকে চিনতে পারি এবং আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন অবলোকন করি। কিন্তু…

ইসলাম ও জীবন

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – অজু করার সময় অনেকেই জামা বা পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে নেন। পরে তাড়াহুড়ো করে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলে কখনো খেয়ালই থাকে না যে হাতা তখনো গোটানো…

ইসলাম ও জীবন

বিয়ে না করলে কী জান্নাতে যাওয়া যাবে?

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে না করলেই কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না- এমন কোনো বিধান নেই। জান্নাতে যাওয়ার মূল ভিত্তি হলো ঈমান, নেক আমল এবং আল্লাহর…

ইসলাম ও জীবন

অপরাধের প্রমাণে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – জনস্বার্থে অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কারও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করা কি ইসলামে বৈধ? কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর অজান্তে ভিডিও ধারণ…

📝 মন্তব্য করার নিয়ম
  • নিচের ঘরে আপনার মতামত লিখুন — লেখা বড় হলে ঘরটি নিজে থেকে বড় হবে।
  • নাম ও ইমেইল দিন (ইমেইল প্রকাশ করা হবে না)।
  • ভদ্র ও শালীন ভাষা ব্যবহার করুন; কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালি বা উসকানিমূলক মন্তব্য করবেন না।
  • "মন্তব্য পাঠান" চাপুন। মডারেশনের পর মন্তব্য প্রকাশিত হতে পারে।

আপনার মতামত জানান