নাটোরের গুরুদাসপুরে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের জানাজার পর এক প্রবাসীর মালিকানাধীন শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে রাশ মেগা মলে এ ঘটনা ঘটে।
শপিংমলটির স্বত্বাধিকারী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইন। স্থানীয়দের ভাষ্য, শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেফতার নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর সঙ্গে রাসেলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এর জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে গত ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেফতারের পর তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঢাকায় জানাজা শেষে মঙ্গলবার রাতে শাকিলের লাশ গুরুদাসপুরে আনা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে মাইকিং করে উপস্থিত লোকজনকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পরে ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি মিছিল চাঁচকৈড় বাজারে যায়। সেখানে তারা মিন্টুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রবাসী ব্যবসায়ী রাসেল হোসাইনের রাশ মেগা মলে হামলা চালান।
দোকানের শাটার ভেঙে মলের তৈরি পোশাক, প্রসাধনী ও জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে লুটপাট করা হয়। পরে মলটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চলার পর পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজনই শপিংমলে হামলা করেন। দলীয়ভাবে পরিচিতি না থাকলেও কিছু লোক মালামাল লুটের উদ্দেশে হামলায় অংশ নেয়। তারা লুট করা মালামাল মাথায় করে এবং রিকশা-ভ্যানে করে বিনা বাধায় নিয়ে যায়।
শপিংমলের মালিক রাসেল হোসাইনের অভিযোগ, শুরু থেকেই একটি মহল শপিংমলটি বন্ধ করার পাঁয়তারা করছিল। শাকিল হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টি করে তার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে গুরুদাসপুর থানার ওসির সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মব সৃষ্টি করে এক প্রবাসীর ক্ষতিসাধন করেছেন। পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।





