বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩ 📰 ই-পেপার
বিজ্ঞাপন
হেডার (লোগোর পাশে) 728×90
বিজ্ঞাপন
মেনুর নিচে (পূর্ণ প্রস্থ) 970×90

রুকয়া কী, কখন প্রয়োজন?

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩২ AM👁 ১ বার পঠিত
বিজ্ঞাপন
খবরের পাতা: লেখার আগে 728×90
দৈনিক সুদিন ডেস্ক –

রুকয়া কী, কখন তা করা প্রয়োজন এবং এ জন্য বিশ্বস্ত ব্যক্তি নির্বাচন করবেন কীভাবে— এ বিষয়ে ইসলামি নির্দেশনা তুলে ধরেছেন এক মুফতি। সম্প্রতি এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে মুফতি, লেখক ও গবেষক এবং ফেনীর রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদের খতিব শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, রুকয়া বা এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মেনে চলা জরুরি।

তিনি বলেন, রুকয়া আরবি শব্দ। এর অর্থ ঝাড়ফুঁক বা দম করা। সাধারণত পবিত্র কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম এবং হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠের মাধ্যমে রুকয়া করা হয়। নিজের জন্য নিজে রুকয়া করা যায়, আবার অন্য কেউও রোগীর জন্য তা করতে পারেন। তবে রুকয়া করার ক্ষেত্রে শিরক ও প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফতোয়ায় বলা হয়, রুকয়ায় ব্যবহৃত দোয়া বা শব্দের অর্থ জানা থাকতে হবে। এতে শিরকপূর্ণ কোনো কথা ব্যবহার করা যাবে না এবং রুকয়া বা তাবিজ নিজে থেকেই রোগ সারাতে পারে—এমন বিশ্বাসও রাখা যাবে না। অন্য কারও মাধ্যমে রুকয়া করালে ওই ব্যক্তি অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

 

কখন রুকয়া প্রয়োজন?

ফতোয়ায় শারীরিক বা মানসিক অস্বাভাবিকতা, অজানা ভয়, দুঃস্বপ্ন, অতিরিক্ত ওয়াসওয়াসা কিংবা হঠাৎ রাগ ও আতঙ্কের মতো কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে রুকয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই কেউ জিন বা শয়তানের প্রভাবে আক্রান্ত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

সাধারণ অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক কিংবা উপযুক্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ধর্মীয় আমলের পাশাপাশি সমস্যার বাস্তব কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

বিশ্বস্ত রুকয়া করানোর ব্যক্তি চিনবেন যেভাবে

রুকয়া করানোর জন্য এমন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যিনি কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করেন, শিরকপূর্ণ বা অজানা মন্ত্র ব্যবহার করেন না এবং রোগীকে ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করেন না। তাঁর আচরণে সততা, ধৈর্য ও নম্রতা থাকা প্রয়োজন।

কেউ রুকয়া করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। একইভাবে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, অস্বাভাবিক আচার পালন কিংবা সন্দেহজনক তাবিজ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

কোরআন-হাদিসে রুকয়ার নির্দেশনা

ফতোয়ায় সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাহাবিরা রুকয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের রুকয়ার পদ্ধতি তুলে ধরতে বলেন এবং শিরক না থাকলে রুকয়ায় আপত্তি নেই বলে জানান।

এ ছাড়া সুনানে তিরমিজিতে সূরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে রুকয়ার ঘটনা এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য দোয়া করার বিষয়ে হাদিসের উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন

ইসলাম ও জীবন

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – চোখ মহান আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য নিয়ামত। এই চোখ দিয়েই আমরা পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখি, প্রিয়জনকে চিনতে পারি এবং আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন অবলোকন করি। কিন্তু…

ইসলাম ও জীবন

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – অজু করার সময় অনেকেই জামা বা পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে নেন। পরে তাড়াহুড়ো করে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলে কখনো খেয়ালই থাকে না যে হাতা তখনো গোটানো…

ইসলাম ও জীবন

বিয়ে না করলে কী জান্নাতে যাওয়া যাবে?

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে না করলেই কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না- এমন কোনো বিধান নেই। জান্নাতে যাওয়ার মূল ভিত্তি হলো ঈমান, নেক আমল এবং আল্লাহর…

ইসলাম ও জীবন

অপরাধের প্রমাণে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ কি জায়েজ? ইসলাম কী বলে

দৈনিক সুদিন ডেস্ক – জনস্বার্থে অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কারও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করা কি ইসলামে বৈধ? কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর অজান্তে ভিডিও ধারণ…

📝 মন্তব্য করার নিয়ম
  • নিচের ঘরে আপনার মতামত লিখুন — লেখা বড় হলে ঘরটি নিজে থেকে বড় হবে।
  • নাম ও ইমেইল দিন (ইমেইল প্রকাশ করা হবে না)।
  • ভদ্র ও শালীন ভাষা ব্যবহার করুন; কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গালি বা উসকানিমূলক মন্তব্য করবেন না।
  • "মন্তব্য পাঠান" চাপুন। মডারেশনের পর মন্তব্য প্রকাশিত হতে পারে।

আপনার মতামত জানান